বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন
আনিচুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কতৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর সনদ বিহীন হেলেন রানী বিশ্বাস নামের এক ভূয়া শিক্ষক এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। নিচ্ছেন ক্লাস, দেখাচ্ছেন দাপট, দীর্ঘ ১৭বছর ধরে পাচ্ছেন সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা সহ বেতন-ভাতা। পাশাপাশি তিনি বিদ্যালটিতে নোংরা রাজনীতিও করছেন। এমনি এক শিক্ষকের সন্ধান মিলেছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ১৯ নং রঘুনাথপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর দীননাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে। এঘটনা শিক্ষার্থী , অভিবাবক ও মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যপক আলোচনা-সমালোচনা। ইতোমধ্যে মহতি এই পেশা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অভক্তি, অশ্রদ্ধা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী প্রশ্ন কি করে সনদ বিহীন শিক্ষক ১৭ বছর ধরে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাজ কি? বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি কি করছে?
আরও পড়ুন: ১০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক এএসপি জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী!
বিদ্যালয়ের একটি গোপন সূত্রে জানা গেছে, হেলেন রানী বিশ্বাস ১৯৯৫ সালে রঘুনাথপুর দীননাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লার্ক হিসাবে যোগদান করেন। ১০ বছর ক্লার্ক হিসাবে চাকুরী করেন। এরপর ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখে তৎকালীন নিয়োগ কমিটিকে কৌশলে ম্যানেজ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কতৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর সনদ না থাকার পরেও সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ বাগিয়ে নেন। এসময় তড়িঘড়ি করে এক দিনের ব্যবধানে ২০০৬ সালের পহেলা জানুয়ারি তারিখে স্কুলে যোগদান করেন। পরে ওই বছরই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, মাধ্যমিক উপজেলা শিক্ষা ও মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা অফিসারের দপ্তর ম্যানেজ করে এমপিওর তালিকাভুক্ত হয়ে বেতন ভাতা প্রাপ্ত হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রঘুনাথপুর দীননাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী সাংবাদিকদের জানান, জালিয়াতি করে নিয়োগ নেওয়া হেলেন রানী বিশ্বাস সরকারি বিধিমালা কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপটের সাথে ১৭ বছর ধরে অবৈধ পন্থায় সরকারি বেতন ভাতা ভোগ করে আসছেন। এছাড়াও অযোগ্য, অদক্ষ এ শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের মধ্যে নোংরা রাজনীতির পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। আমরা এনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অপরদিকে রঘুনাথপুর দীননাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অভিবাবকগন ও রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সচেতন মহল সনদ বিহীন শিক্ষক হেলেন রানী বিশ্বাসকে তদন্তের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।